ঠিক কতদিন পর সৌদি টু ঢাকা টিকেটের দাম কমতে পারে? Saudi to Dhaka Ticket Price After Eid 2026
ঈদের কতদিন পরে দেশে গেলে টিকেট সস্তা পাবেন? সৌদি এয়ারলাইন্স, Flynas, বিমান ও US-Bangla টিকেট আপডেট
প্রতি বছর ঈদকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশগামী ফ্লাইটগুলোর টিকেটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে ঈদ ও হজ্জ মৌসুম একসাথে চলে আসলে টিকেটের সংকট আরও তীব্র হয়।
অনেক প্রবাসী ভাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পরিবারের সাথে ঈদ কাটাতে দেশে যেতে পারেন না শুধুমাত্র অতিরিক্ত টিকেট মূল্যের কারণে। তাই অনেকেই পরিকল্পনা করেন ঈদের পরে ছুটিতে যাওয়ার।
আজকের এই পোস্টে জানার চেষ্টা করবো
ঈদের ঠিক কতদিন পরে গেলে টিকেট তুলনামূলক কমে পাওয়া যায় এবং সৌদি এয়ারলাইন্স, Flynas, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও US-Bangla এয়ারলাইন্সের টিকেটের সম্ভাব্য মূল্য কত হতে পারে।
কেন ঈদের আগে টিকেটের দাম বেড়ে যায়?
ঈদ ও হজ্জ মৌসুমকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশ রুটে যাত্রী সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
বিশেষ করে:
হজ্জ যাত্রীদের যাতায়াত
ঈদে দেশে ফেরা প্রবাসীরা
সীমিত সিট সংখ্যা
আগাম বুকিং
এই কারণগুলো মিলিয়ে টিকেটের দাম অনেক সময় দ্বিগুণ পর্যন্ত হয়ে যায়।
এছাড়া হজ্জ শেষ হওয়ার পরও কিছুদিন পর্যন্ত টিকেটের চাপ থাকে। কারণ হাজীরা বাংলাদেশে ফেরার জন্য আগেই রিটার্ন টিকেট বুক করে রাখেন। ফলে সিট খালি কম থাকে এবং টিকেটের মূল্য সহজে কমে না।
ঈদের কতদিন পরে টিকেটের দাম কমতে শুরু করে?
সাধারণত ঈদের ১০ থেকে ১৫ দিন পর থেকে ধীরে ধীরে টিকেটের চাপ কমতে শুরু করে।
আর জুন মাসের শেষের দিকে গেলে অনেক রুটে টিকেট তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে:
Riyadh To Dhaka
Jeddah To Dhaka
Dammam To Dhaka
Madinah To Dhaka
রুটগুলোতে কিছুটা মূল্য কমার সম্ভাবনা থাকে।
তবে মনে রাখতে হবে:
সময়ভেদে
সিট খালি থাকা
ট্রাভেল এজেন্সি
অনলাইন বুকিং প্ল্যাটফর্ম
উইকেন্ড বা পিক টাইম
এসব বিষয়ের উপর ভিত্তি করে টিকেটের দাম কম-বেশি হতে পারে।
কোন এয়ারলাইন্সের টিকেট কত হতে পারে?
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স
বাংলাদেশের জাতীয় বিমান সংস্থা হওয়ায় অনেকেই সরাসরি ফ্লাইটের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বেছে নেন।
সম্ভাব্য সুবিধা:
ডাইরেক্ট ফ্লাইট
তুলনামূলক বেশি লাগেজ সুবিধা
পরিবার নিয়ে ভ্রমণে সুবিধাজনক
ঈদের পর জুনের শেষের দিকে টিকেটের চাপ কমলে ভাড়া কিছুটা কমতে পারে।
Saudia (সৌদি এয়ারলাইন্স)
সৌদি এয়ারলাইন্স সাধারণত ভালো সার্ভিস ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য পরিচিত।
সুবিধা:
উন্নত সার্ভিস
খাবার অন্তর্ভুক্ত
ভালো লাগেজ সুবিধা
সরাসরি ফ্লাইট
তবে পিক সিজনে এই এয়ারলাইন্সের টিকেট তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হয়।
Flynas
Flynas একটি লো-কস্ট এয়ারলাইন্স হওয়ায় কম বাজেটের যাত্রীদের কাছে খুব জনপ্রিয়।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো:
আপনি যদি জেদ্দা ছাড়া সৌদির অন্যান্য শহর যেমন:
রিয়াদ
দাম্মাম
মদিনা
তাবুক
জিজান
তাইফ
ইত্যাদি শহর থেকে ভ্রমণ করেন, তাহলে Flynas সাধারণত আপনাকে প্রথমে জেদ্দায় নিয়ে আসবে। এরপর জেদ্দা থেকে বাংলাদেশগামী ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
সুবিধা:
তুলনামূলক কম ভাড়া
বাজেট ট্রাভেলের জন্য ভালো
আগেভাগে বুকিং করলে ভালো অফার পাওয়া যায়
অসুবিধা:
কিছু রুটে ট্রানজিট থাকতে পারে
লাগেজ সুবিধা সীমিত হতে পারে
US-Bangla Airlines
বর্তমানে সৌদি রুটে US-Bangla অনেক যাত্রীর কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
সুবিধা:
তুলনামূলক প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া
কিছু রুটে সরাসরি ফ্লাইট
বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক সার্ভিস
টিকেট বুকিংয়ের আগে যেসব বিষয় অবশ্যই দেখবেন
টিকেট কাটার আগে শুধু দাম দেখলেই হবে না। নিচের বিষয়গুলোও খেয়াল রাখতে হবে:
✅ কত কেজি লাগেজ দেওয়া হচ্ছে
✅ ডাইরেক্ট নাকি ট্রানজিট ফ্লাইট
✅ খাবার অন্তর্ভুক্ত কিনা
✅ টিকেট রিফান্ড বা ডেট পরিবর্তন করা যাবে কিনা
✅ অতিরিক্ত লাগেজ চার্জ কত
শেষ কথাঃ
ঈদের আগে অতিরিক্ত ভিড় ও হজ্জ মৌসুমের কারণে টিকেটের দাম স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। তবে সাধারণত ঈদের ১০ থেকে ১৫ দিন পরে এবং জুন মাসের শেষের দিকে গেলে কিছুটা কম দামে টিকেট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তাই যারা ঈদের আগে দেশে যেতে পারেননি, তারা একটু পরিকল্পনা করে টিকেট বুকিং করলে ভালো দামে টিকেট পেতে পারেন।
বিশেষ করে সৌদি এয়ারলাইন্স, Flynas, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও US-Bangla এই চারটি এয়ারলাইন্সের ভাড়া ও সুবিধা তুলনা করে সিদ্ধান্ত নিলে আপনার ভ্রমণ আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন